আর্মি পাবলিক স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ

আপনি কি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন আর্মি স্কুলে চাকরি করতে চান ? তাহলে আপনার জন্য এটি একটি সুযোগ । আর্মি স্কুলে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য অনলাইন স্ক্রিনিং টেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। এই পরীক্ষা নেওয়া হবে 19 এবং 20 ফেব্রুয়ারি। এই পরীক্ষায় সফল হলে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগ হবে না কিন্তু ভারতের সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতা করার যোগ্যতা অর্জন করা যাবে।

এই পরীক্ষায় পাস করলে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে যার validity তিন বছর পর্যন্ত থাকবে। এই পরীক্ষায় বসার জন্য ‘টেট’ পাস করার কোন প্রয়োজন নেই। দেশে 136 টি আর্মি পাবলিক স্কুল রয়েছে। সেই গুলোতে যখন শূন্য পদ অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হবে তখন এই সার্টিফিকেট দেখিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এইসব বিদ্যালয় গুলোতে প্রাইমারি টিচার, ট্রেন্ড গ্রাজুয়েট টিচার এবং পোষ্ট-গ্রাজুয়েট টিচার পদে নিয়োগ করে থাকে।

কোন্ কোন্ পদে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হবে, বিষয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা

পদ: পোস্ট-গ্রাজুয়েট ট্রেন্ড টিচার ( পিজিটি )

বিষয়: ইংরেজি, হিন্দি, ভূগোল, ইকনমিক্স, পলিটিক্যাল সাইন্স, ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, সাইকোলজি, কমার্স, কম্পিউটার সাইন্স/ইনফর্মেটিক্স, হোম সায়েন্স, ফিজিক্যাল এডুকেশন।

যোগ্যতা: ৫০ শতাংশ নম্বর সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এর সঙ্গে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএড।

পলিটিক্যাল সায়েন্সের ক্ষেত্রে পলিটিক্স বা পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বা ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারীরা আবেদন করতে পারেন ।

ম্যাথমেটিক্সের ক্ষেত্রে ম্যাথমেটিক্স বা স্টাটিস্টিক্স বা অপারেশনাল রিসার্চে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা ম্যাথমেটিক্সে এম এস সি এডুকেশন ডিগ্রি থাকতে হবে।

ফিজিক্সের ক্ষেত্রে ফিজিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা এম এসসি এডুকেশন ডিগ্রি থাকতে হবে।

কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে কেমিস্ট্রি বা বায়োকেমিস্ট্রি বা ফার্মেসি কেমিস্ট্রিতে এম এসসি এডুকেশন ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন।

বায়োলজির ক্ষেত্রে জুলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সঙ্গে অন্যতম বিষয় হিসাবে বটানি থাকতে হবে অথবা বটানিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সঙ্গে অন্যতম বিষয় হিসাবে জুলজি থাকতে হবে। অথবা মাইক্রো বায়োলজি অথবা মলিকিউলার বায়োলজি বা এগ্রিকালচার বটানি বা জেনেটিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সঙ্গে স্নাতক স্তরে জুলজি বা বটানি পড়ে থাকতে হবে। অথবা জুলজি বা বটানিতে এম এসসি ডিগ্রি থাকলে আবেদন করতে পারেন।

বায়োটেকের ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

কম্পিউটার সায়েন্স ইনফর্মেটিক্স এর ক্ষেত্রে কম্পিউটার সায়েন্স বা ইনফরমেশন টেকনোলজি বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইলেক্ট্রনিক্স বা ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশনে  বি ই বা বিটেক ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়াও এমসিএ অথবা আইটি বা কম্পিউটার সায়েন্সে এম এসসি ডিগ্রি অথবা ম্যাথমেটিক্স বা ফিজিক্স বা স্টাটিস্টিক্সে এম এসসি ডিগ্রি এর সাথে স্নাতক স্তরে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ে থাকতে হবে। বিসিএ অথবা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা আইটিতে তিন বছরের ডিপ্লোমা অথবা এআইসিটিই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশনে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা অথবা ডোয়েক থেকে বি লেভেল কোর্স পাস করলে যোগ্য।

পদ: ট্রেন্ড গ্রাজুয়েট টিচার ( টিজিটি )

বিষয়: ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত, ইতিহাস, ভূগোল, ইকনমিক্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, কম্পিউটার সায়েন্স/ইনফর্মেটিক্স, ফিজিক্যাল এডুকেশন।

যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ স্নাতক, সেই সঙ্গে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বি এড।

সোশ্যাল সায়েন্স এর ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েশনে অন্যতম একটি বিষয় হিসাবে ইতিহাস বা ভূগোল থাকতে হবে এবং এর সঙ্গে পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং ইকনমিক্স এর মধ্যে যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে পাস হতে হবে।

ম্যাথমেটিক্সের ক্ষেত্রে স্নাতকে অন্যতম বিষয় হিসাবে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইলেক্ট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও স্ট‍্যাটিসটিক্সের মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয় নিয়ে পাস করতে হবে।

কম্পিউটারের ক্ষেত্রে বি সি এ বা কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক বা কম্পিউটার সায়েন্স বা আইটি তে বি ই বা বিটেক। এছাড়া যেকোনো শাখার স্নাতকরা ডোয়েক এ লেভেল পাস করলে যোগ্য।

ফিজিক্যাল এডুকেশনের ক্ষেত্রে ৪ বছরের বিপিএড ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা যেকোন বিষয়ে স্নাতকের পরে এক বছরের বিপিএড ডিপ্লোমা কোর্স পাস হলেও যোগ্য। অথবা ফিজিক্যাল এডুকেশন, হেল্থ এডুকেশন এন্ড স্পোর্টসে বিএসসি কোর্স পাস করে ১ বছরের বিপিএড ডিপ্লোমা কোর্স পাস হতে হবে।

কম্পিউটার এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন বাদে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে 4 বছরের বিএবিএড বা বিএসসিবিএড পাসরা আবেদন করতে পারেন।

পদ: প্রাইমারি টিচার ( পি আর টি )

যোগ্যতা: ৫০ শতাংশ নম্বর সহ সাধারণ অথবা অনার্স স্নাতক। এর সাথে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ ব্যাচেলর অফ এডুকেশন ( বি এড ) অথবা ২ বছরের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন ট্রেনিং।

বয়স: সব পদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১/০৪/২১ হিসাবে ৪০ বছরের মধ্যে। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীদের বয়সের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারা ৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। তাদের ক্ষেত্রে শেষ ১০ বছরের মধ্যে ৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সম্ভাব্য পরীক্ষার তারিখ: ১৯ এবং ২০ ফেব্রুয়ারি। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার স্থান: পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের জন্য পরীক্ষা দেওয়ার স্থান গুলি হল কলকাতা, দূর্গাপুর ও শিলিগুড়ি।

পরীক্ষার পদ্ধতি: পরীক্ষা নেওয়া হবে দুটি পার্টে। কিন্তু প্রাইমারি টিচার পদের ক্ষেত্রে কেবল প্রথম পত্রের উত্তর দিতে হবে। প্রথম পত্রে Objective প্রশ্ন হবে। মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন হবে। ৯০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, সময় সীমা থাকবে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। জেনারেল Awarness, কারেন্ট এফেয়ারস্, ইংলিশ কম্প্রিহেনশন এবং এডুকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন হবে।

দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে ৯০ নম্বরের। এতেও অবজেক্টিভ টাইপ মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকবে এবং এর সময়সীমা নির্ধারিত করা হয়েছে ২ ঘন্টা।

আবেদনের সময়সীমা: অনলাইনে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দরখাস্ত করতে পারবেন। প্রার্থীর মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল আইডি থাকতে হবে। অনলাইনে আবেদন করবেন https://register.cbtexams.in/AWES/Registration/ সাইটে।

আবেদন ফি: ৩৮৫ টাকা ফি দিতে হবে।

Leave a Comment