বুলেট ট্রেন কি ? বুলেট ট্রেন সম্পর্কে জানতে চাই

 বুলেট ট্রেন কি ? আজকে এই পোস্টে বুলেট ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনারা নিশ্চয় বুলেট ট্রেনের নাম শুনেছেন। এটি উচ্চ গতি সম্পন্ন ট্রেন। আমরা যে ট্রেন গুলোতে চড়েছি সেগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০০ কিমি থেকে ১২0 কিমি প্রতি ঘন্টা। কিন্তু একটা বুলেট ট্রেনের গতিবেগ এর তিন চার গুন বেশি হয়ে থাকে।

বুলেট ট্রেন কী ? বুলেট ট্রেন সম্পর্কে জানুন
বুলেট ট্রেন কি

 এই ট্রেন সাধারণ রেলপথে চালানো যায় না। এর জন্য আরও উন্নত রেলপথ তৈরি করতে হয়। যারা বুলেট ট্রেন সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্যই এই আর্টিকেলটি। বুলেট ট্রেন একটি অত‍্যাধুনিক ট্রেন। বিশ্বের কয়েকটি দেশে এই ট্রেন  চালু আছে। জাপান, চিন, ফ্রান্সের মতো দেশে বুলেট ট্রেনে মানুষ যাতায়াত করে। এই ট্রেন প্রথম চালু হয়েছিল জাপানে। পরে আরও কয়েকটি দেশ এই ট্রেন নিজেদের দেশে চালানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। 

ভারত বা বাংলাদেশ এখনও বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি। তবে ভারত কয়েক বছরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করতে চাইছে। এর জন্য পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিংজি আবে ভারতের বুলেট ট্রেন চালানোর ব‍্যপারে কথা হয়েছে। জাপান ভারতকে সহযোগিতা করতে চাই। আশা কর যায় 2023 সাল নাগাদ ইন্ডিয়াতে বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা।

বুলেট ট্রেন কি / What is Bullet train 

বুলেট ট্রেন হচ্ছে উচ্চ দ্রুত গতি সম্পন্ন ট্রেন। এই ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় 200 কিলোমিটার থেকে শুরু। এটা সর্ব নিম্ন গতিবেগ। যে ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় 200 কিলোমিটার থেকে শুরু সেই ট্রেনকে বুলেট ট্রেন বলা যাবে। বর্তমানে যে বুলেট ট্রেন গুলো চলে তার মধ্যে কিছু ট্রেন আছে যেগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। 

জাপানে প্রথম বুলেট ট্রেন চালু হলেও এখন বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে চালানো হয়ে থাকে। Bullet অর্থাৎ গুলির মতো গতি হওয়ার জন্য এই ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে বুলেট ট্রেন। 

UPS কি ? ইউপিএস সম্পর্কে জানুন

বুলেট ট্রেনের জন্য তৈরি রেলপথে ২৫০ কিমি প্রতি ঘন্টায় ট্রেন গুলো চালানো হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ ট্রেনের রাস্তা আপগ্রেড করে প্রতি ঘন্টায় ২০০ কিমি গতিবেগে চালানো হয়। সাধারণত বর্তমানে বুলেট ট্রেন গুলো ২৫০ কিমি থেকে ৩০০ কিমি প্রতি ঘন্টা গতিবেগে চলে। তবে সবচেয়ে বেশি গতিবেগে বুলেট ট্রেন চলার রেকর্ড আছে সেটা হলো ৫৮১ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। বুলেট ট্রেন কি আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এবার আলোচনা করব বুলেট ট্রেনের যাতায়াতের সম্পর্কে।

বুলেট ট্রেনের সুবিধা /  বুলেট ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা

বুলেট ট্রেন সাধারণ ট্রেনের থেকে অনেক সুবিধা দিয়ে থাকে। বুলেট ট্রেনে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা অনেক বেশি। এর সাথে বিমানের তুলনা চলতে পারে। চলুন জানা যাক বুলেট ট্রেন কতৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য কি কি সুবিধা রেখেছে।

1. সময় বাচানো‌: আমরা জেনেছি বুলেট ট্রেন হচ্ছে অতি দ্রুত গতির ট্রেন। তাই বুলেট ট্রেনে যাতায়াত করলে অনেক সময় save হয়। বেশি দুরে যাতায়াত করতে বুলেট ট্রেনকেই প্রথম সারিতে রাখতে হবে।

আইওএস কী ? iOS সম্পর্কে জানুন

2. বিমানের তুলনায় সস্তা যাত্রা: কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিমানের তুলনায় বুলেট ট্রেনে যাতায়াত করা বেশি সুবিধা। আপনি যখন কোনো ছোট শহরে যাবেন তখন সেখানে বিমান চলাচলের ব‍্যাবস্থা না থাকতেও পারে, সেক্ষেত্রে বুলেট ট্রেনে যেতে পারবেন। কিন্তু বিমানের তুলনায় ট্রেনের ভাড়া কম খরচ করতে হবে। 

3. বুলেট ট্রেনের বসা আসন সংখ্যা: একটা বুলেট ট্রেনে ১০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। যেটা একটা বিমানের তুলনায় অনেক বেশি। বুলেট ট্রেনের seat গুলো বিমানের seat এর মতো। 

4. জ্বালানি : বিমানের তুলনায় বুলেট ট্রেনের জ্বালানি খরচ অনেক কম। বুলেট ট্রেনে বিমানের তুলনায় যাত্রী বেশি যাওয়ার কারণে খরচের তুলনায় আয়ের ratio বুলেট ট্রেনের বেশি। 

কোন্ কোন্ দেশে বুলেট ট্রেন চালু আছে ?

বিশ্বের মধ্যে প্রথম বুলেট ট্রেন চালু হয়েছিল জাপানে । কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ বুলেট ট্রেন চালু করেছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন্ কোন্ দেশের মানুষরা বুলেট ট্রেনে যাতায়াত করে। জাপান, চিন, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক,  ইংল্যান্ড, উজবেকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, সৌদিআরব, মরক্কো, নেদারল্যান্ড, স্পেন, পোল‍্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন, পর্তুগাল এবং অস্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশে বুলেট ট্রেনে মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

বুলেট ট্রেনে কি ড্রাইভার থাকে ?

অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা বা confusion আছে যে বুলেট ট্রেনে কোন driver থাকে না। আসলে সেটা সঠিক কথা নয়। প্রত‍্যেক বুলেট ট্রেনে ড্রাইভার থাকে। কারণ ট্রেন নিরাপদে চালানোর জন্য অবশ্যই ড্রাইভারের প্রয়োজন। বিনা ড্রাইভারে ট্রেন চালালে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কোন ভুল হলে অনেক যাত্রীর জীবনহানি হতে পারে।

বুলেট ট্রেনের গতিবেগ বা speed কত ?

বুলেট ট্রেনের গতিবেগ সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ ট্রেন চলে ঘন্টায় ১০০ কিমি থেকে ১২০ কিমি বেগে। এটা সর্বোচ্চ গতিবেগ। বুলেট ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। কিন্তু একটি বুলেট ট্রেন গড়ে ঘন্টায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিমি গতিবেগে চলে। 

বুলেট ট্রেনের সবচেয়ে দির্ঘ বা লম্বা রাস্তা কোথায় অবস্থিত ?

এই রেকর্ডটি চিনের দখলে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা রাস্তা চিনে অবস্থিত। এটি চিনের বেইজিং শহর থেকে গুয়াংঝু ( Guangzhou ) শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। বুলেট রেলওয়েটি ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম চালু হয়েছিল। এই রাস্তাটি ২২৯৮ কিলোমিটার লম্বা।

বুলেট ট্রেন কোন্ জ্বালানির দ্বারা চলে ?

বুলেট ট্রেন বিদ্যুৎ ( Electricity ) এর মাধ্যমে চালিত। over head power supply বিশেষভাবে বুলেট ট্রেনের জন্য করা হয়ে থাকে। 25000 ভোল্টের over head AC power supply এর মাধ্যমে বুলেট ট্রেন চলাচল করে।

বুলেট ট্রেন কত প্রকারের ?

বুলেট ট্রেনের রাস্তার উপর নির্ভর করে বুলেট ট্রেন তিন শ্রেণীতে বিভক্ত।

প্রথম শ্রেণী: এই শ্রেণীর রেলওয়ে বিশেষভাবে বুলেট ট্রেন চালানোর জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। এই রেলওয়েতে বুলেট ট্রেনের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে। ঘন্টায় 250 কিলোমিটার বা তার বেশি গতিবেগে এই রেলওয়ের উপর দিয়ে চলে। 

দ্বিতীয় শ্রেণী: সাধারণ ট্রেন চলা রেলওয়েকে বুলেট ট্রেন চলার জন্য মেরামত করে উন্নত করা। যাতে বুলেট ট্রেন এই রেলওয়ের উপর দিয়ে চলতে পারে। এই রাস্তা দিয়ে চলা বুলেট ট্রেনের গতিবেগ থাকে প্রতি ঘন্টায় 200 কিমি।

তৃতীয় শ্রেণী : এই রেলওয়েটি অনেকটা দ্বিতীয়টার মতোই। পুরনো রেলওয়েকে উন্নত করে বুলেট ট্রেন চালানো।এমনভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়ে থাকে যাতে ট্রেন প্রতি ঘন্টায় 200 কিমি গতিবেগে চলতে পারে।

বুলেট ট্রেন কবে চালু হয়েছিল ?

শুনে অবাক হবেন কত দিন আগে বুলেট ট্রেন চালু হয়ছিল ? বুলেট ট্রেন চালু হয়েছিল 1927 সালে জাপানে প্রথম বুলেট চালু করার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিল। 1964 সালে জাপানে প্রথম বুলেট ট্রেন চালু করেছিল। এর গতিবেগ Bullet অর্থাৎ গুলির সাথে তুলনা করা হয়েছিল তাই এই ট্রেনের নাম রাখা হয়েছে বুলেট ট্রেন। জাপানে ‘বুলেট শিনকাশেন’  বা নতুন মেন লাইন নামে পরিচিত। 

ভারতে কবে বুলেট ট্রেন চালু হবে ?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো  আবের সাথে বুলেট ট্রেনের ব‍্যাপারে 2021 সালের 14 সেপ্টেম্বর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন 2022 সালের 15 আগস্টের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে।


বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গতির বুলেট ট্রেন

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গতির ট্রেন চীনে চলে। ট্রেনটির নাম সাংঘাই মেগ্লেব। এই ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় 270 কিমি। কিন্তু জাপান ঘন্টায় 400 কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেন চালানোর ট্রায়াল করে দিয়েছে।

পরিশেষে:–

বুলেট ট্রেন খুব দ্রুত গতির ট্রেন। সাধারণ ট্রেনে যে পথ যেতে যা সময় লাগবে বুলেটে ট্রেনে অনেক কম সময়ে অর্থাৎ তিন ভাগের এক ভাগ সময়ে সেই পথ যাওয়া হবে। আশা করি বুলেট ট্রেন কি এবং এর সম্পর্কে বিস্তারিত ব‍্যাখা দিতে পেরেছি।

বন্ধুরা, এই পোস্টটি আপনাদের কেমন লাগল। ভালো লেগেছে নিশ্চয়। আপনাদের মতামত আমাকে কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের শেয়ার করবেন।

Leave a Comment